সম্প্রতি ভারতের জলশক্তিমন্ত্রী সিআর পাতিল এক বিস্ফোরক মন্তব্য করে জানিয়েছেন, পাকিস্তানে সিন্ধু নদের এক ফোঁটা পানিও যেন না যায়, সেই লক্ষ্যেই ভারত সরকার কাজ করছে। এক্স (সাবেক টুইটার)-এ দেওয়া একটি পোস্টে তিনি জানান, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে একটি রোডম্যাপ প্রস্তুত করা হয়েছে। এ নিয়ে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক আলোচনা ও আন্তর্জাতিক মহলেও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।



পোস্টে মন্ত্রী লেখেন, “স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠকে তিনটি অপশন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সরকার স্বল্পকালীন, মধ্যকালীন এবং দীর্ঘকালীন ব্যবস্থার ওপর কাজ করছে যেন পাকিস্তানে এক ফোঁটা পানিও না যায়। শিগগিরই নদীর প্রবাহ বন্ধ করতে ড্রেজিং কাজ সম্পন্ন হবে এবং প্রবাহ অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হবে।”


ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক এমনিতেই উত্তপ্ত। তার ওপর সিন্ধু নদ নিয়ে এই ধরনের পদক্ষেপ দুই দেশের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি করতে পারে। উল্লেখযোগ্য যে, ১৯৬০ সালে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সিন্ধু পানি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। এই চুক্তির অধীনেই সিন্ধু নদ ও তার উপনদীগুলোর পানি ভাগাভাগি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে একটি ব্যবস্থাপত্র চালু রয়েছে। তবে বর্তমান ভারতের অবস্থান সেই পুরনো সমঝোতার বিরুদ্ধে যাচ্ছে বলেই অনেক বিশ্লেষকের মত।


বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি ভারত সিন্ধু নদের পানি আটকে দেয় বা প্রবাহ ঘুরিয়ে দেয়, তবে পাকিস্তানের কৃষি ব্যবস্থা এবং পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় বিরূপ প্রভাব পড়বে। পাকিস্তানের অনেকাংশেই কৃষিনির্ভর, এবং সিন্ধু নদ সেখানে প্রাণসঞ্চার করে।


ভারত সরকারের এমন পদক্ষেপের পেছনে কারণ হিসেবে উঠে এসেছে সীমান্তে ক্রমাগত উত্তেজনা, সন্ত্রাসবাদে পাকিস্তানের মদত এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে ভারতের কৌশলগত অবস্থান। যদিও বিষয়টি আন্তর্জাতিক জলচুক্তি লঙ্ঘনের পর্যায়ে পড়ে কিনা তা নিয়ে আলোচনা চলছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কীভাবে এই পদক্ষেপকে গ্রহণ করে সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।


এদিকে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, পাকিস্তান এই বিষয়টি জাতিসংঘে তুলতে পারে অথবা আন্তর্জাতিক আদালতে নিয়ে যেতে পারে।


এই পরিস্থিতি আগামীতে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের উপর কেমন প্রভাব ফেলবে এবং দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে কী প্রভাব ফেলবে, তা সময়ই বলে দেবে।